কোমর ব্যথার কারণ ও করণীয়: লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায়

কোমর ব্যথা বর্তমানে একটি অত্যন্ত সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। তরুণ থেকে বয়স্ক—যেকোনো বয়সের মানুষ কোমর ব্যথায় আক্রান্ত হতে পারেন। দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, ভারী জিনিস তোলা, পেশিতে টান লাগা কিংবা মেরুদণ্ডের বিভিন্ন সমস্যার কারণে কোমর ব্যথা হতে পারে।

অনেকেই কোমর ব্যথাকে সাধারণ সমস্যা মনে করে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী কোমর ব্যথা, পায়ে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া অথবা পায়ে ঝিনঝিনি অনুভূত হওয়া স্নায়ুর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

তাই কোমর ব্যথার কারণ ও করণীয় সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা জরুরি। এই লেখায় কোমর ব্যথা কেন হয়, এর লক্ষণ, ঘরোয়া করণীয়, চিকিৎসা এবং কখন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন, তা বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

কোমর ব্যথা কী?

কোমর ব্যথা বা Low Back Pain হলো পিঠের নিচের অংশে, বিশেষ করে কোমরের মেরুদণ্ড ও আশপাশের পেশি বা অন্যান্য টিস্যুতে অনুভূত ব্যথা বা অস্বস্তি।

কোমর ব্যথা কখনো হালকা, কখনো তীব্র হতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ব্যথা শুধু কোমরে সীমাবদ্ধ থাকে, আবার কারও ক্ষেত্রে নিতম্ব হয়ে এক বা উভয় পায়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সময়কাল অনুযায়ী কোমর ব্যথাকে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়:

  • তীব্র বা স্বল্পমেয়াদি কোমর ব্যথা (Acute): ৪ সপ্তাহের কম সময় স্থায়ী হয়।
  • মধ্যবর্তী সময়ের কোমর ব্যথা (Subacute): ৪ থেকে ১২ সপ্তাহ স্থায়ী হয়।
  • দীর্ঘস্থায়ী কোমর ব্যথা (Chronic): ১২ সপ্তাহের বেশি সময় স্থায়ী হয়।

অনেক ক্ষেত্রেই কোমর ব্যথা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে উন্নতি করে। তবে কিছু সমস্যায় চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের প্রয়োজন হতে পারে।

কোমর ব্যথার প্রধান কারণ কী কী?

কোমর ব্যথার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। সব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট একটি কারণ শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। সাধারণ কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো।

১. দীর্ঘ সময় বসে থাকা ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা

বর্তমানে অফিসে ডেস্কে বসে কাজ করা, কম্পিউটার ব্যবহার এবং দীর্ঘ সময় একই অবস্থানে থাকার কারণে অনেক মানুষ কোমর ব্যথায় ভোগেন।

শরীরের নড়াচড়া কম হওয়া এবং পেশির দুর্বলতা কোমর ব্যথার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

২. পেশি বা লিগামেন্টে টান লাগা

হঠাৎ ভারী জিনিস তোলা, ভুলভাবে ঝুঁকে কাজ করা অথবা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের ফলে কোমরের পেশি ও লিগামেন্টে টান লাগতে পারে।

এ ধরনের ব্যথা সাধারণত নড়াচড়া, ঝুঁকে কাজ করা বা ভারী কিছু তুললে বাড়তে পারে।

৩. ডিস্কের সমস্যা বা হার্নিয়েটেড ডিস্ক

মেরুদণ্ডের কশেরুকাগুলোর মাঝখানে নরম ডিস্ক থাকে, যা চাপ শোষণে সাহায্য করে।

কখনো ডিস্কের কোনো অংশ বাইরে বেরিয়ে এসে কাছের স্নায়ুতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। একে Herniated Disc বলা হয়। সাধারণভাবে অনেকে এটিকে স্লিপ ডিস্ক বলে থাকেন।

এতে কোমর ব্যথার পাশাপাশি পায়ে ব্যথা, ঝিনঝিনি বা দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।

৪. সায়াটিকা বা স্নায়ুতে চাপ

সায়াটিকা (Sciatica) হলো সাধারণত কোমর থেকে নিতম্ব হয়ে পায়ের দিকে ছড়িয়ে পড়া স্নায়ুজনিত ব্যথা।

সায়াটিকার ক্ষেত্রে নিচের সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে:

  • কোমর থেকে এক পায়ে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া।
  • পায়ে ঝিনঝিনি বা অবশ অনুভূতি।
  • পায়ে জ্বালাপোড়া বা বিদ্যুতের শকের মতো ব্যথা।
  • কখনো পায়ের পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া।

তবে পায়ে ব্যথা হলেই তা সায়াটিকা নয়। সঠিক কারণ শনাক্ত করতে চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন।

৫. মেরুদণ্ডের ক্ষয়জনিত পরিবর্তন

বয়স বাড়ার সঙ্গে মেরুদণ্ডের ডিস্ক ও জয়েন্টে বিভিন্ন পরিবর্তন হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে এসব পরিবর্তন কোমরে ব্যথা, শক্ত হয়ে থাকা বা স্নায়ুতে চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

৬. স্পাইনাল স্টেনোসিস

স্পাইনাল স্টেনোসিস (Spinal Stenosis) হলো মেরুদণ্ডের ভেতরের স্নায়ু চলাচলের স্থান সংকুচিত হয়ে যাওয়া।

এতে বিশেষ করে হাঁটা বা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার সময় পায়ে ব্যথা, ভারী লাগা বা অবশভাব হতে পারে। বসলে অথবা সামনের দিকে সামান্য ঝুঁকলে কিছু রোগীর উপসর্গ কমে যায়।

৭. অন্যান্য শারীরিক সমস্যা

কখনো কোমর ব্যথার পেছনে অন্য রোগও থাকতে পারে। যেমন:

  • মেরুদণ্ডের প্রদাহজনিত রোগ।
  • অস্টিওপোরোসিসের কারণে কশেরুকায় ফ্র্যাকচার।
  • কিডনিতে পাথর বা সংক্রমণ।
  • মেরুদণ্ডে সংক্রমণ।
  • খুব বিরল ক্ষেত্রে মেরুদণ্ডের টিউমার।

তাই দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক কোমর ব্যথার সঠিক কারণ নির্ণয় করা গুরুত্বপূর্ণ।

কোমর ব্যথার সাধারণ লক্ষণ

কোমর ব্যথার কারণ অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • ১. কোমরের নিচের অংশে ব্যথা বা অস্বস্তি।
  • ২. সামনে ঝুঁকতে বা সোজা হয়ে দাঁড়াতে কষ্ট হওয়া।
  • ৩. দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা বা দাঁড়িয়ে থাকার পর ব্যথা বেড়ে যাওয়া।
  • ৪. কোমরের পেশি শক্ত হয়ে থাকা।
  • ৫. কোমর থেকে নিতম্ব বা পায়ে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া।
  • ৬. পায়ে ঝিনঝিনি, অবশভাব বা দুর্বলতা অনুভূত হওয়া।

সব রোগীর ক্ষেত্রে একই ধরনের লক্ষণ দেখা যায় না। বিশেষ করে স্নায়ুজনিত লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কোমর ব্যথার করণীয় কী? ঘরোয়া উপায়ে ব্যথা কমানোর পদ্ধতি

সাধারণ কোমর ব্যথার ক্ষেত্রে কিছু নিরাপদ অভ্যাস উপসর্গ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

১. দীর্ঘ সময় বিছানায় শুয়ে থাকবেন না

কোমর ব্যথা হলে অনেকেই সম্পূর্ণ বিশ্রাম নিতে চান। কিন্তু দীর্ঘ সময় বিছানায় শুয়ে থাকলে পেশির শক্তি ও স্বাভাবিক চলাফেরার সক্ষমতা কমতে পারে।

সহনীয় মাত্রায় হাঁটাচলা এবং দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন। তবে যেসব কাজে ব্যথা বেশি হয়, সেগুলো সাময়িকভাবে সীমিত রাখুন।

২. গরম বা ঠান্ডা সেঁক ব্যবহার করুন

কোমর ব্যথা ও পেশির অস্বস্তি কমাতে গরম বা ঠান্ডা সেঁক কিছু ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে।

ঠান্ডা সেঁক ব্যথা ও সাময়িক ফোলা কমাতে সাহায্য করতে পারে। গরম সেঁক পেশির টান ও শক্তভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে।

ত্বকের ওপর সরাসরি অতিরিক্ত গরম বা বরফ ব্যবহার করবেন না। তোয়ালে দিয়ে মুড়িয়ে ব্যবহার করুন।

৩. বসার সময় আরামদায়ক ভঙ্গি বজায় রাখুন

দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারে কাজ করলে বসার অবস্থান আরামদায়ক রাখুন। কোমরের স্বাভাবিক বাঁককে সমর্থন করে এমন চেয়ার ব্যবহার করতে পারেন।

একই ভঙ্গিতে দীর্ঘ সময় না থেকে মাঝেমধ্যে উঠে দাঁড়ান এবং কিছুক্ষণ হাঁটুন।

৪. নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করুন

হাঁটা, শরীরের নমনীয়তা বজায় রাখার ব্যায়াম এবং কোমর ও পেটের পেশি শক্তিশালী করার উপযুক্ত ব্যায়াম কোমর ব্যথা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।

তবে সবার জন্য একই ব্যায়াম উপযুক্ত নয়। ব্যথা পায়ে ছড়িয়ে পড়লে বা স্নায়ুর সমস্যা থাকলে ফিজিওথেরাপিস্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম করুন।

৫. ভারী জিনিস তোলার সময় সতর্ক থাকুন

ভারী জিনিস তোলার সময় শরীরের কাছাকাছি রেখে তুলুন এবং প্রয়োজনে হাঁটু ও নিতম্ব ভাঁজ করুন।

জিনিস তোলার সময় কোমর হঠাৎ মোচড়ানো থেকে বিরত থাকুন।

৬. স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন

অতিরিক্ত ওজন কোমরের ওপর চাপ বাড়াতে পারে। সুষম খাবার ও নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখার চেষ্টা করুন।

৭. নিজে নিজে দীর্ঘদিন ব্যথার ওষুধ খাবেন না

ব্যথা কমানোর ওষুধ সবার জন্য নিরাপদ নয়। বিশেষ করে কিডনির সমস্যা, পাকস্থলীর আলসার, হৃদ্‌রোগ বা অন্য ওষুধ সেবনের ইতিহাস থাকলে কিছু ব্যথানাশক ক্ষতিকর হতে পারে।

তাই চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথার ওষুধ গ্রহণ করবেন না।

কোমর ব্যথার সঙ্গে পায়ে ঝিনঝিনি হলে কী করবেন?

কোমর ব্যথার সঙ্গে পায়ে ঝিনঝিনি, অবশভাব বা ব্যথা ছড়িয়ে পড়া কখনো কোমরের স্নায়ুতে চাপ বা জ্বালার লক্ষণ হতে পারে।

বিশেষ করে Herniated Disc বা Spinal Stenosis-এর মতো সমস্যায় এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

তবে সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য রোগীর ইতিহাস জানা, শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত পরীক্ষা করা জরুরি।

পায়ের দুর্বলতা নতুন করে শুরু হলে বা বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন।

কখন কোমর ব্যথা বিপজ্জনক হতে পারে?

কিছু বিশেষ লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসা নিতে হবে।

নিচের যেকোনো লক্ষণ থাকলে জরুরি বিভাগে যান:

  • প্রস্রাব শুরু করতে নতুন করে সমস্যা হওয়া, প্রস্রাব আটকে যাওয়া অথবা প্রস্রাব-পায়খানার নিয়ন্ত্রণ হারানো।
  • যৌনাঙ্গ, পায়ুপথ বা দুই উরুর মাঝের অংশ অবশ হয়ে যাওয়া।
  • দুই পায়ে নতুন করে দুর্বলতা বা অবশভাব দেখা দেওয়া।
  • গুরুতর দুর্ঘটনা বা আঘাতের পর কোমরে তীব্র ব্যথা হওয়া।

এসব লক্ষণ কখনো মেরুদণ্ডের নিচের অংশের স্নায়ুতে গুরুতর চাপের কারণে হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না হলে স্থায়ী স্নায়বিক ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

এ ছাড়া কোমর ব্যথার সঙ্গে জ্বর, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, রাতে ক্রমাগত ব্যথা অথবা ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

কোমর ব্যথার জন্য কী কী পরীক্ষা করা হয়?

কোমর ব্যথার কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসক প্রথমে রোগীর উপসর্গ, চিকিৎসার ইতিহাস এবং শারীরিক পরীক্ষা করেন।
প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন।

X-ray: মেরুদণ্ডের হাড়, অ্যালাইনমেন্ট বা ফ্র্যাকচার মূল্যায়নের জন্য।
MRI: ডিস্ক, স্নায়ু ও অন্যান্য নরম টিস্যুর সমস্যা মূল্যায়নের জন্য।
রক্ত পরীক্ষা: সংক্রমণ বা প্রদাহজনিত রোগের সন্দেহ থাকলে।

মনে রাখতে হবে, সাধারণ কোমর ব্যথার জন্য সবার MRI বা X-ray প্রয়োজন হয় না। পরীক্ষার ফলাফল চিকিৎসার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে কি না, সেটিও বিবেচনা করা হয়।

কোমর ব্যথার আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি

কোমর ব্যথার চিকিৎসা নির্ভর করে ব্যথার কারণ, সময়কাল, তীব্রতা এবং স্নায়বিক উপসর্গের ওপর।

১. ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা

কিছু রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসক স্বল্প সময়ের জন্য উপযুক্ত ব্যথানাশক বা প্রদাহ কমানোর ওষুধ দিতে পারেন।

ওষুধের ধরন ও ব্যবহারের সময়সীমা রোগীর অন্যান্য শারীরিক সমস্যা বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হয়।

২. ফিজিওথেরাপি ও ব্যায়াম

ফিজিওথেরাপি এবং পরিকল্পিত ব্যায়াম কোমরের পেশি শক্তিশালী করতে, নড়াচড়া স্বাভাবিক রাখতে এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।

৩. বিশেষায়িত চিকিৎসা

কিছু নির্বাচিত রোগীর ক্ষেত্রে স্নায়ুজনিত ব্যথা কমাতে নির্দিষ্ট ইনজেকশন বা অন্যান্য চিকিৎসা বিবেচনা করা হয়।

৪. স্পাইন সার্জারি

সব কোমর ব্যথার রোগীর অপারেশন প্রয়োজন হয় না।

কিছু ক্ষেত্রে স্নায়ুতে গুরুতর চাপ, ক্রমবর্ধমান স্নায়বিক দুর্বলতা অথবা উপযুক্ত চিকিৎসার পরও নির্দিষ্ট সমস্যার উন্নতি না হলে স্পাইন সার্জারি বিবেচনা করা হতে পারে।

অপারেশনের প্রয়োজনীয়তা, সম্ভাব্য উপকার ও ঝুঁকি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মূল্যায়ন করেন।

কোমর ব্যথা প্রতিরোধে দৈনন্দিন অভ্যাস

কোমর ব্যথার ঝুঁকি কমাতে কিছু অভ্যাস উপকারী হতে পারে।

  • নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন।
  • দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থানে বসে থাকা এড়িয়ে চলুন।
  • কোমর ও পেটের পেশি শক্তিশালী করার উপযুক্ত ব্যায়াম করুন।
  • ভারী জিনিস সঠিক পদ্ধতিতে তুলুন।
  • স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।
  • ধূমপান থেকে বিরত থাকুন।
  • পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করুন।

কোমর ব্যথা সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

কোমর ব্যথা কেন হয়?

কোমর ব্যথা পেশিতে টান, দীর্ঘ সময় বসে থাকা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, ডিস্কের সমস্যা, মেরুদণ্ডের ক্ষয়জনিত পরিবর্তন অথবা স্নায়ুতে চাপের কারণে হতে পারে। কখনো নির্দিষ্ট কারণ পাওয়া যায় না।

কোমর ব্যথা কি কিডনির সমস্যার লক্ষণ?

কিছু ক্ষেত্রে কিডনিতে পাথর বা সংক্রমণের কারণে পিঠের পাশের দিকে ব্যথা হতে পারে। তবে অধিকাংশ সাধারণ কোমর ব্যথা কিডনির সমস্যার কারণে হয় না।

কোমর ব্যথার সঙ্গে পায়ে ঝিনঝিনি কেন হয়?

কোমরের কোনো স্নায়ুতে চাপ বা জ্বালার কারণে পায়ে ঝিনঝিনি ও অবশভাব দেখা দিতে পারে। তবে অন্য কারণেও এমন উপসর্গ হতে পারে।

কোমর ব্যথা কত দিনে ভালো হয়?

সাধারণ স্বল্পমেয়াদি কোমর ব্যথা প্রায়ই কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভালো হয়। তবে ব্যথার কারণ ও তীব্রতার ওপর নির্ভর করে সুস্থ হতে বেশি সময় লাগতে পারে।

কোমর ব্যথায় কি MRI করতে হয়?

সব রোগীর MRI করার প্রয়োজন নেই। গুরুতর স্নায়বিক সমস্যা বা বিশেষ রোগের সন্দেহ থাকলে কিংবা পরীক্ষার ফল চিকিৎসার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসক MRI দিতে পারেন।

কোমর ব্যথার জন্য কি অপারেশন প্রয়োজন?

বেশিরভাগ সাধারণ কোমর ব্যথার ক্ষেত্রে অপারেশন প্রয়োজন হয় না। নির্দিষ্ট কিছু মেরুদণ্ড ও স্নায়ুর সমস্যায় সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।

কোমর ব্যথা হলে কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখাবেন?

প্রথমে একজন উপযুক্ত চিকিৎসকের মাধ্যমে মূল্যায়ন করানো যেতে পারে। সমস্যার ধরন অনুযায়ী ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ, নিউরোলজিস্ট অথবা স্পাইন ও নিউরোসার্জারি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে।

উপসংহার

কোমর ব্যথা একটি সাধারণ সমস্যা হলেও সব কোমর ব্যথার কারণ এক নয়। অনেক ক্ষেত্রেই নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, উপযুক্ত ব্যায়াম এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

তবে দীর্ঘদিন কোমর ব্যথা থাকা, পায়ে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া, ঝিনঝিনি বা দুর্বলতা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কোমর ব্যথার কারণ ও করণীয় সম্পর্কে সচেতন থাকুন, সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিন এবং মেরুদণ্ডের সুস্থতার যত্ন নিন।


কোমর ও মেরুদণ্ডের সমস্যায় বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

ডা. আতিকুর রহমান রিমেল
MBBS, BCS (Health), MS (Neurosurgery)
Advanced Neuro-vascular & Stroke Fellowship — Japan
Endoscopic Skull Base Surgery Fellowship — Japan
Neuroendoscopy Fellowship — India

কনসালট্যান্ট নিউরোসার্জন
National Institute of Neurosciences & Hospital, Dhaka

কোমর ব্যথা, সায়াটিকা, মেরুদণ্ডের ডিস্কের সমস্যা এবং স্পাইন সংক্রান্ত জটিল রোগের মূল্যায়ন ও চিকিৎসার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নিতে পারেন।

চেম্বার ১:
ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, উত্তরা, ঢাকা।
সিরিয়ালের জন্য: 09610-009612

চেম্বার ২:
ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, মিরপুর-১১, ঢাকা।
সিরিয়ালের জন্য: 01810000118

ওয়েবসাইট: https://drrimelneuro.com/

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ব্লগ পোস্টটি স্বাস্থ্য সচেতনতার উদ্দেশ্যে তৈরি। এটি সরাসরি চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। জরুরি স্নায়বিক উপসর্গ থাকলে নিয়মিত চেম্বারের অ্যাপয়েন্টমেন্টের অপেক্ষা না করে হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা নিন।

Leave a Comment